এক.
যুদ্ধটা শুরু হয়ে গেছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। বাংলাদেশের যুদ্ধ। দেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ। বেগম খালেদা জিয়ার স্বামী মেজর জিয়া ৭১’এর মুক্তিযুদ্ধে জীবনবাজি রেখে রনাঙ্গনে স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়ে মুক্তি সংগ্রাম শুরু করে দিয়েছেন। ততকালীন পাকিস্তান উপনিবেশিক শাসন ও শোষনের বিরুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক নেতৃত্ব কারাবরণ ও আত্মগোপন করায় অসীম সাহসে মেজর জিয়া দিকভ্রান্ত জাতিকে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার ঘোষণা দেন। শুধু কি ঘোষণা? রণাঙ্গনে যুদ্ধের পরিকল্পনা, যুদ্ধের ট্রেনিং, অপারেশন- এক কথায় একটি অসম যুদ্ধকে জয়ী করতে যা যা করা দরকার তার সব কিছুই করেন মেজর জিয়া। অন্যদিকে সেই কঠিন সময়েও দেশ ছেড়ে পালাননি এই গৃহবধূ বেগম খালেদা জিয়া। তিনি কি পারতেন না অন্য সবার মত করে নিরাপদে পালিয়ে যেতে? পার্শ¦বর্তী কোনো দেশে! বুঝলাম সময় পাননি। সময় লাগবে কেন? সাধারণের মত করেও তো তিনি সস্তান দুটোকে নিয়ে নিজের মতো করে নিরাপদে চলে যেতে পারতেন। কিন্তু যাননি এবং পালাননি। নিজের নিরাপত্তার খোঁজও করেননি। এটিকে আপনারা কি বলবেন?
দেশী বিদেশী চক্রান্তে জনপ্রিয় ষ্টেটম্যান প্রেসিডেন্ট জিয়াকে হত্যা করার পর জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা দখল করে।ষ্টেটম্যান জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর নয় বছরের এক সামরিক স্বৈরাচার চেপে বসে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায়। অন্যদিকে সামরিক শাসকের বিরুদ্ধে জনতার সংগ্রামও শুরু হয়। যা একেবারে সৈরাচার পতন আন্দোলনে গিয়ে শেষ হয়। তখনো বিএনপিকে ধরা হতো এক রকম এলিটদের সংগঠন। গ্রাম-গঞ্জে ওভাবে সংগঠিত হয়ে উঠতে পারেনি বিএনপি তখনো। এই শূন্যতাটা অনুভব করলেন বিধবা এক গৃহবধু। ছাত্রদল থেকে বিএনপি, সারা দেশ চষে বেড়িয়ে সংগঠনটাকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করালেন তিনি।এমনভাবে দাঁড়িয়ে গেলেন তিনি, স্বৈরাচারের তক্তোথাউস তছনছ করে ছাড়লেন। সঙ্গের অনেকেই লোভ-লালসায় পড়ে পক্ষ ত্যাগ করল, স্বৈরাচারের দোসরে পরিনত হলো।অথচ কোন লোভ-লালসাই এই গৃহবধূটিকে তার কর্তব্য থেকে এতটুকু টলাতে পারল না। দেশের মানুষের মুক্তির কন্ঠস্বরে পরিনত হয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। বাংলাদেশের জনগণ ভালোবেসে তাকে আপোষহীন দেশনেত্রী নামে ডাকে।
দুই.
অল্পদিনেই এদেশের মানুষ ম্যাডামকে চিনে ফেললেন।স্বৈরাচারের পতনের পর অবাধ ও নিরপেক্ষ এক নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগন তাঁর হাতে দেশের দায়িত্ব তুলে দিলেন।শুরু হলো সদ্য ভুমিষ্ঠ গনতন্ত্রকে এগিয় নেওয়ার সফল যাত্রা।সাধারণ রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও মানুষের মধ্য থেকে নেতৃত্ব উঠে আসল।তারা দেশের নীতি নির্ধারক হয়ে গেলো। খেয়াল করুন-এর আগে কিন্তু দেশ চালিয়েছে- হয় মিলিটারি, না হয় এলিট একটি শ্রেণী। সেই জায়গার দখল এখন সাধারণ রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের হাতে, তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দেশের নীতি নির্ধারক। তার মানে মন্ত্রনালয় থেকে শুরু করে দপ্তর, অধিদপ্তর চলছে জনতার কথায় আর তার নেতৃত্ব দিচ্ছেন যথারীতি ম্যাডাম খালেদা জিয়া। জনগণের রাষ্ট্রের মালিকানা পেল জনগণ।
১৯৯৬ সাল। বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় কিন্তু বিরোধীরা তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্হা চায়।সংসদে বিল পাশ করতে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা লাগবে। একমাসের মধ্যে একটা নতুন নির্বাচন হলো,সেই সংসদে তত্ত্বাবধায়কের বিল পাশ করে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবার ক্ষমতা ছেড়ে দিলেন। আজকের মতো করে তিনি ভাবেননি,দুই তৃতীয়াংশ নিয়ে আবার এসেছি, বছর পাঁচেক থেকেই যাই। ইচ্ছা করলে অসম্ভব ছিলো না, তিনি এমন ইচ্ছাই করেন নি, করতে পারেন নি। ভেবে দেখুন,কয়েক দিন আগে যিনি দেশ চালালেন, তিনি আবার ক্ষমতায় আসার চোরাগলি না খুঁজে, সবার সাথে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য বিরোধী দলের দাবী মেনে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাশ করে, নির্ধারিত তারিখে ক্ষমতা ছেড়ে দিলেন।এটা সম্ভব হয়েছিল একমাত্র বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারনে।তিনি গণমানুষের কন্ঠস্বরকে প্রাধান্য দিয়েই রাজনীতি করেন।মানুষের জন্যই তাঁর জীবন, রাজনীতি ও পথচলা।
তিন.
ওয়ান ইলেভেনের সময় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজলুল বারী ছিলেন ডিজিএফআইয়ের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক।সেই সময় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দূর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান, জিজ্ঞাসাবাদ এবং মামলা দায়েরের মতো গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব পালন করতেন এই ফজলুল বারী।কয়েকদিন আগে এক ইউটিউব চ্যানেলে সাক্ষাৎকারে দেখলাম সে সময়ের মামলাগুলো তৈরির প্রেক্ষাপট বর্ণনা করছিলো সে।বিবেকের তাড়নায় বলেই ফেললো- নিয়মতান্ত্রিক অভিযোগ ও সাক্ষী প্রমাণের ভিত্তিতে শেখ হাসিনার নামে কয়েকটি মামলা হয়ে গেলো। কিন্তু ম্যাডাম খালেদা জিয়ার নামে কোন অভিযোগ পাওয়া গেলো না। মামলার অগ্রগতি মূল্যায়নে সিদ্ধান্ত হলো,এক নেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা হলে সরকার বেকায়দায় পড়বে, নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে, উভয়েরই দূর্নীতি খুঁজে বের করা দরকার, উভয়ের নামেই মামলা হওয়া দরকার। উপস্থিত সরকারের উপদেষ্টা মন্ডলিরও একই মত। তারপর গোজামিল দিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার নামে মামলা তৈরী করা হলো। প্রথম মামলাটি হলো জিয়া চেরিটেবল ট্রাস্ট দূর্নীতি ওপর, যার অযুহাতে তিনি এখন জেলে। খেয়াল করুন, যার হাতে মামলাটি তৈরী, সে স্বীকার করছে, এটি একটি বানোয়াট মামলা। ব্রিগেডিয়ার বারী আরো বলছে, ম্যাডাম জিয়া সেদিন বিদেশ যাওয়ার প্রস্তাবে রাজি হলে, শেখ হাসিনাও আর দেশে ফিরে আসতেন না।চিকিৎসার নাম করে বিদেশে যাওয়ার আগে এরকমই কথা হয়েছিলো শেখ হাসিনার সাথে। ম্যাডাম জিয়া গেলেন না, এই সাহসে, রাজনীতি টিকিয়ে রাখার জন্য হলেও ঐ নেত্রী তড়িঘড়ি করে দেশে ফিরে এলেন।হিসেব করে দেখলাম, এক হাজার নয়শ ঊনষাট দিন,এক হাজার নয়শ ঊনষাট রাত যাবত চার দেয়ালের মধ্যে আটকে আছেন বয়োবৃদ্ধ মহীয়সী এই নারী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এক নেত্রী ভেতরে, আরেক জন বাইরে থাকলে সরকারের নিরপেক্ষতা নষ্ট হবে এজন্য বানানো একটি মামলার কারণে। কিভাবে? দেশের আইন-আদালতে যুগযুগ ধরে গড়েওঠা জামিনের রেওয়াজ ভেঙ্গে, বিচারের নামে তামাশা করে।
চার.
এ পর্বের লেখাটি শেষ করব একটা ঘটনা দিয়ে। স্বামীর স্মৃতিবিজোরির মইনুল রোডের বাসা থেকে জোর করে বের করে দেওয়ার পর খালেদা জিয়া ভাড়াবাসা ফিরোজায় এসে উঠলেন। দুইতলার দক্ষিণ বারান্দা সেখানে প্রায়ই চুপচাপ বসে থাকতেন তিনি।মনে হতো স্বামীর স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি ছেড়ে, সন্তান সন্তোতি থেকে দূরে, এই জন্য মন খারাপ হয়তো! একদিন বিকেলে, বাসাভাড়া সংক্রান্ত একটা কাজের ফাঁকে বললাম ম্যাডাম, আপনি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, অথচ আপনার একটা নিজস্ব বাড়ি নাই। ভেবেছিলাম ছেড়ে আসা বাড়ির স্মৃতিচারন করবেন তিনি।অথবা আমার কথায় সায় দিয়ে কিছু একটা বলবেন। কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে সেদিন তিনি বলেছিলেন-“এতটুকু একটা দেশ, এটাই তো আমার বাড়ি, এদেশের মানুষই তো আমার পরিবার। দেখোনা, যে এলাকায় যাই, সেই এলাকাটাই কেমন করে আমার হয়ে যায়, যে রাস্তায় দাড়াই, সেখানেই লাখো মানুষ এসে জড়ো হয়, যা চাই, তাই তারা আমাকে দিয়ে দেয়!” বিষ্মৃত হয়ে গেলাম, আর একটি কথাও না বলে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে এলাম।
এই মহীয়সি নারীই নেতৃত্ব দিয়ে স্বৈরাচার এরশাদের পতন ডেকে এনেছিলেন। তাঁর হাত ধরে প্রথম এদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র, অবাধ ভোট এসেছিলো। তিনি নারী শিক্ষাকে অবৈতনিক করেছিলেন, চালু করে ছিলেন উপবৃত্তি, বিনা মূল্যে বই দিয়েছিলেন, নারী অধিকারের নেত্রীরাও এতোটা ভাবেনি তখন। খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, এটিও ছিলো একটি বড়ো চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক দ্বায়িত্ব পালন কালে সমালোচিত হওয়ার মতো একটা কথাও তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে উচ্চারণ করেন নি। এটাই বেগম খালেদা জিয়া। এটাই আপোষহীন দেশনেত্রী।
পাঁচ.
বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রীর নাম এখন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি রাজনীতিতে পা রাখার পর থেকে বিএনপিতে অনেক উত্থান পতন হলেও ব্যক্তি বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা কখনোই কমেনি।এখনও না। অথচ তিনি আজ ইতিহাসের চরমতম নিষ্ঠুরতার স্বীকার। দেশি-বিদেশী ষড়যন্ত্রে ২০১৮ সালের ৮’ফেব্রুয়ারী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে সাজা দেয়ায় ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের সেন্ট্রাল জেলের নির্জন প্রকৌষ্ঠে কারাবন্দী থেকে এখন অবধি গৃহবন্দী। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার এক ট্র্যাজিক রাজনীতিবিদের নাম বেগম খালেদা জিয়া। শের আফগান ও মেহেরুন্নেসার পরবর্তীতে নূরজাহানের জীবনীকেও হার মানায় বেগম খালেদা জিয়ার জীবন কাহিনী। অথচ তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং রাষ্ট্রপতির স্ত্রী। তিনি সার্ক এর প্রতিষ্ঠাতার স্ত্রী। তিনি নিজে তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী।তিনি দুইবার সংসদের প্রধান বিরোধীদলীয় নেত্রী।তিনি বাংলাদেশের প্রথম ফাস্টলেডি।
তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।তিনি মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী। স্বামী প্রেসিডেন্ট আর স্ত্রী অর্থাৎ তিনি জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী, এই রের্কড বাংলাদেশে আর কারো নেই। যিনি ৯১,৯৬ ও ২০০১ সালে প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে পাঁচটি করে আসনে(সিটে) দাঁড়িয়েছেন এবং প্রতিবার পাঁচটিতেই জিতেছেন! হারার রেকর্ড নেই। আছে জয়ের হিমালয়সম ইতিহাস।
প্রেক্ষাপট ২০০৮ সালে মিলিটারী ব্যাক মঈনুদ্দিন ফকরুদ্দিন সরকার বেগম জিয়াকে টার্গেট করে পাঁচ সিটে ভোটে দাঁড়ানোর বিধান বদলে সর্বোচ্চ তিন সিটে দাঁড়ানোর আইন করলে বেগম জিয়া তিন সিটে দাঁড়ান এবং তিন সিটে জয়লাভ করেন। যিনি আপোষহীন দেশনেত্রী।জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আপোষ কাকে বলে সে শব্দ যার অভিধানে নেই।
জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আপোষহীনতার রেকর্ড বেগম জিয়া, শহীদ জিয়া ও মওলানা ভাসানী ছাড়া আর কারো নেই।আভিজাত্যের ছোঁয়ায় লালিত হয়েও যিনি অতি সাধারণ। ব্যক্তি জনপ্রিয়তায় বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশে সব সময়ই তুঙ্গে, যার ধারে কাছে এখনো কেউ যেতে পারেনি, ব্যতিক্রম একমাত্র শহীদ জিয়া।
তিনিই বাংলাদেশে একমাত্র নারী প্রধানমন্ত্রী যিনি চার চার বার বন্দি হয়েছেন।একবার পাকিস্তান সরকার, দ্বিতীয়বার জেনারেল এরশাদ সরকার, তৃতীয়বার মিলিটারী ব্যাক মঈনুদ্দিন/ফখরুদ্দিন সরকার ও চতুর্থবার শেখ হাসিনার সরকার। ২০১৫ সালের গনতন্ত্র পূনরুদ্ধার আন্দোলন কালে আলোচিত ও সমালোচিত বালুর ট্রাক দ্বারা বন্দিত্ব জীবনের রেকর্ডটিও বেগম জিয়ার। ম্যাডাম থেকে ‘মা’ হতে পারার রেকর্ডটিও বেগম খালেদা জিয়ার দখলে।
জাতীয়তাবাদী রাজনীতি করার অপরাধে স্বামীর স্মৃতি বিজোরিত মইনুল রোডের বাস্তভিটা থেকে বিতাড়িত, বিনা অপরাধে কারাদন্ড ও শাস্তিভোগ, অল্পবয়সে বৈধব্যবরণ স্বত্বেও মাথানত করেনি। দৃঢচিত্তে স্বার্বভৌম বাংলাদেশের স্বপ্ন বুকে ধারন করার কারনে আজও যিনি সবচেয়ে বেশী নির্যাতিত। আধুনিক মালয়েশিয়ার জনক মাহাথির মোহাম্মদ’এর ভাষায় এশিয়ার নেলসন ম্যান্ডেলা “বেগম খালেদা জিয়া”।
ছয়.
ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী দেড় দশক পার হয়ে গেলো, এই মহীয়সী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখনও গৃহবন্দী! কিন্তু কেন? সব সত্য জেনে শুনে আমরাও আজ পরিস্থিতির কাছে অসহায় ও নিরব! কিন্তু ম্যাডামের আবেদন এদেশের মানুষের কাছে চিরঅম্লান। কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিশেষ এক সরকারী আদেশে ফিরোজায় নিয়ে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। ম্যাডাম জিয়ার মুক্তির সাথে জড়িয়ে গেছে এদেশের ভাগ্যহত মানুষের মুক্তি। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিই হবে বাংলাদেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের নবসূচনা।
লেখক :
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী।
তার ওপর রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ মানুষের জীবনকে ভয়াবহ হুমকিতে ফেলেছে। সারাবিশ্বে এখন মন্দা। দ্রব্যমূলের আকাশছোঁয়া দাম। কোনোভাবেই মানুষের দৈনিন্দ চাহিদা মেটাতে পারছে না। যুদ্ধেও প্রভাবে দেখা দিয়েছে জ্বালানি সংকট। জ্বালানি সংকটের জন্য সারা পৃথিবী আজ ভয়াবহ দিন পার করছে। গ্যাসের অভাব দেখা দিয়েছে প্রকট আকারে। খাদ্যপণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। সারাবিশ্ব এখন দুইভাগে বিভক্ত। যুক্তরাষ্ট্র জোট আর রাশিয়া জোট। এর প্রভাবে মধ্যভিত্ত ও নিম্নভিত্ত দেশগুলো ভয়াবহ সংকটে দিন পার করছে। তাই আগামী বছরে সবার একটাই আশা অন্তত যুদ্ধটা থেমে যাক। নতুন বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল দেখতে চান সাধারণ মানুষ। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কথা হয় গৃহবধূ মমতাজ বেগমের সাথে। তার কথা, ‘গেল বছর পেঁয়াজ-আলুর দাম নিয়ে যা ঘটেছে তাতে আতঙ্কিত হয়েছি। মনে হয়েছে বাজারের ওপর কারোর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সিন্ডিকেট করে যেকোনো শক্তিশালী গ্রুপ চাইলে যেন যা কিছু তাই করতে পারে। এটার অবসান চাই।’ নিরাপত্তার বিষয়টিকে মানুষ এখন শুধু আক্ষরিক অর্থে নিরাপত্তা মনে করেন না। তারা এটাকে অনিশ্চয়তার দিক থেকে দেখেন। কাজের নিরাপত্তা, চলাফেরার নিরাপত্তা, ভালো থাকার নিশ্চয়তা এসব দিক তারা বিবেচনায় নেন। নতুন বছরে এসব দিক দিয়ে সবাই ভালো থাকতে চান। একাদশ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিপাকে থাকা বিরোধী দলগুলো নতুন বছরে সরকার পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নতুন বছর পরিবর্তনের। ঐক্যবদ্ধ হয়ে দানব সরকারকে সরাতে হবে। সরকারি দল আওয়ামী লীগ বিরোধী দলগুলোকে তেমন পাত্তা দিচ্ছে না। নতুন বছর তাদের জন্য বেকায়দার কিছু হবে না, এমনটাই তারা ভাবছেন।
]]>প্রশ্ন: নেড, আপনাকে ধন্যবাদ। বাংলাদেশ ইস্যুতে প্রশ্ন। বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে প্রশ্ন করার জন্য বাংলাদেশি মিডিয়ার সাংবাদিকদের কাছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন প্রশ্নের লিস্ট দিয়েছেন। খোলা বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক লাখ নাগরিক নিখোঁজ হন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাÐের শিকারে পরিণত হন- কারণ, নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা হাজারের বেশি নাগরিককে হত্যা করেন।
তাদের বেশির ভাগই আফ্রিকান বংশোদ্ভূত আমেরিকান ও হিস্প্যানিক।
তিনি আরও বলেছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আস্থা নেই। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার মিডিয়া আরটি টিভি বন্ধ করে দেয়ার সমালোচনা করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও মিডিয়ার স্বাধীনতাকে অগ্রাধিকার দেয়- বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস এ বক্তব্য দেয়ার একদিন পরেই এই বিবৃতি প্রচার করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আরও বলেছেন, তারা বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। এই কর্তৃত্ববাদী সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য সম্পর্কে আপনি কি বলবেন? বাংলাদেশ নিয়ে আমার আরও একটি প্রশ্ন আছে।
নেড প্রাইস: ভালো কথা। বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব আছে। এর অংশ হিসেবে বেশকিছু ইস্যুতে, অভিন্ন স্বার্থবিষয়ক কিছু ইস্যু তুলে ধরার এবং একই সঙ্গে উদ্বেগ তুলে ধরার মতো অবস্থানে আছি আমরা। আমরা নিয়মিতভাবে মানবাধিকারের ইস্যুগুলো তুলে ধরি বাংলাদেশ সরকারের কাছে। এটা আমরা প্রকাশ্যে করি, যেমনটা আগেও করেছি। আবার এটা আমরা প্রাইভেটলিও করি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শাক্তিশালী করার আহ্বান জানাই আমরা। আরও আহ্বান জানাই আইনের শাসন, মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার সুরক্ষা শক্তিশালী করতে। আমরা আহ্বান জানাই শ্রমিক অধিকার ও নিরাপত্তা, একই সঙ্গে শরণার্থীদের সুরক্ষা শক্তিশালী করতে। এসব অধিকারকে শক্তিশালী করতে এবং তা সুরক্ষিত রাখতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আমরা কাজ করছি। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে তাদেরকে আমরা কমপক্ষে ৮০০ কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছি। শুধু ২০২১ সালে খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে কমপক্ষে ৩০ কোটি ডলার দিয়েছে ইউএসএইড। একই সঙ্গে গণতন্ত্রকে সমুন্নত করা এবং সুশাসন এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। অন্তর্ভুক্ত পরিবেশ সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্র। ফলে আমাদের বাংলাদেশি অংশীদারদের সঙ্গে এসব নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ নিয়ে আরও একটি প্রশ্ন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং ক্ষুদ্রঋণের প্রবক্তা নোবেল পুরস্কার বিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ফেলে দেয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমপ্রতি যে মন্তব্য করেছেন, তার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ব্যবহার করেছেন মুহাম্মদ ইউনূস। যাতে তাদেরকে শাস্তি দেয়া যায়। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাকে এভাবে শাস্তি দিতে হবে। তিনি চান তাদেরকে পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ফেলে দেয়া হোক। দেখুন, তিনি প্রকাশ্যে একথা বলেছেন এবং দেশজুড়ে এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ এসব বিক্ষোভকারীদের ওপর আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দল হামলা করছে। এ বক্তব্যের বিষয়ে কি বলবেন?
নেড প্রাইস: সারা বিশ্বে আমরা যেমনটা করি, আমাদের প্রতিশ্রæতি হলো সভা সমাবেশের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, যেকোনো দেশে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বিক্ষোভের অধিকারের প্রতি। এটা সর্বজনীন অধিকার। তা বাংলাদেশের জনগণের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য, যেমনটা সারা বিশ্বে প্রযোজ্য। বিশ্বজুড়ে সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই, আমরা নিরাপত্তা সার্ভিস, নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী, নাগরিক ফোর্সের প্রতি আহ্বান জানাই এসব অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে। আমরা আহ্বান জানাই শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অনুমতি দিতে, যাতে তাদের বক্তব্য শোনা যায়।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ডিকাব) আলোচনায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এ কথা জানান। বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে। এই ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন দায়িত্ব পালন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন পরিচালনার স্বার্থে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, আনুষ্ঠানিক না হলেও বাংলাদেশে যে নির্বাচনের প্রক্রিয়া এরইমধ্যে শুরু হয়ে গেছে পত্রিকায় চোখ বুলালেই সেটা দেখতে পাই। তাই এখন থেকেই (নির্বাচনের বিষয়ে) আমাদের দিক থেকে অবাধ, সুষ্ঠু এবং আন্তর্জাতিক মানের নির্বাচন হচ্ছে কি না- সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখাটা জরুরি।
]]>বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল রাজধানী ঢাকার সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে সোমবার (১২ এপ্রিল) অভিযোগপত্রসহ কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। এই সময়ে আইনমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার ফাঁস হওয়া কথোপকথনের উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, “দুজনের কথোপকথনের মধ্য থেকে একটা অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও সর্বোচ্চ পর্যায়ে দুর্নীতি সংগঠিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সেই বিষয়ের ব্যাপারে আমরা বলেছি, আপনারা (দুদক) তদন্ত জোরদার করুন। এ বিষয়ে শক্তিশালী তদন্ত করুন এবং আমরা সে–সংক্রান্ত কিছু দলিল, কাগজপত্র ওনাদের হাতে দিয়েছি, একটি পেনড্রাইভ দিয়েছি। সেই সঙ্গে কিছু ডকুমেন্টেশনও দিয়েছি।”
এছাড়া দ্বিতীয় অভিযোগ বিষয়ে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, “সাবেক মন্ত্রী মোশাররফ হোসেনের ভাই ফরিদপুরের জনাব বাবর সাহেব (মোহতাশেম বাবর)। তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি, পরে কী হলো, কী কারণে এটি থেমে গেল বা সেই জায়গায় কী কাজ হচ্ছে, এ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ আছে। এই জিনিসের পরিষ্কার ব্যাখ্যা চাওয়ার জন্য আমরা এসেছি।”
এই সময়ে নিজ দলের নেতাদের দুর্নীতির অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিএনপির এই নেতা বলেন, “সেগুলো তো বিচারাধীন। যেগুলো বিচারাধীন নয়, আমরা সে ধরনের বিষয়গুলো নিয়ে এসেছি। এর মধ্যে বেশির ভাগই হচ্ছে অপ্রমাণিত, সাজানো। আরেকটি হচ্ছে দুদক যদি স্বাধীনভাবে সেখানে কাজ করে, বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্ট দিতে পারে, সেখানে বিএনপির কোনো আপত্তি নেই।”
দুদকে কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অপর রাজনৈতিক দলের এভাবে অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টিকে ‘নতুন মাত্রা’ বলছেন রাজনৈতিক নেতা ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা। ভয়েস অফ আমেরিকার সাথে আলাপে তারা বলছেন এই ঘটনা রাজনীতিতে নতুন সংস্করণ।
অভিযোগকারী দল বিএনপির নেতারা বলছেন, এখন থেকে নিয়মিত তারা সরকারদলীয় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করতে চান। অপরদিকে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, এই ঘটনা তারা দেশের জনসাধারণের সামনে বিবেচনার জন্য তুলে ধরবেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেন, “বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের নানা ‘অনিয়ম ও লুটপাট ও দুর্নীতি’র বিরুদ্ধে আমরা বিভিন্ন সময়ে কথা বলে এসেছি। এখন থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সরকারের সব ‘অনিয়ম ও লুটপাটে’র বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করবো। দুদক যেহেতু একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, তাই দুদকের মাধ্যমে এই অভিযোগ জমা দেওয়া হবে। সরকারের যদি সৎ সাহস থাকে তবে নিরপেক্ষভাবে এসব অভিযোগ তদন্ত করার ব্যবস্থা করা উচিৎ।”
ওদিকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ভয়েস অফ আমেরিককাকে বলেন, “বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আরেকটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি তদন্তের যে চিঠি দিয়েছে এটি আমি বলবো বিএনপির রাজনীতির একটি নতুন সংস্করণ। এখন এই অভিযোগ দেশবাসী কীভাবে গ্রহণ করে সেটাই দেখার বিষয়।”
অভিযোগ দেওয়া হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে, সেখানে দেশবাসীর করণীয় কেমন হতে পারে, জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, “বিএনপির রাজনীতি হচ্ছে অভিযোগের রাজনীতি। আওয়ামী লীগ একটি গণমানুষের দল। এই দলটি জনগণের ইচ্ছা ও আকাঙ্খা পূরণে রাজনীতি করে থাকে। বিএনপি এখন গণতান্ত্রিক উপায়ে সফলতা না পেয়ে অভিযোগের রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করেছে। দেখা যাক কী হয়।”
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বিষয়টিকে দেখছেন ভিন্নভাবে। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি দুটি রাজনৈতিক দল। আওয়ামী লীগ এখন ধীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায়। বিএনপি বিরোধী পক্ষ। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যে অভিযোগে বিএনপি দুদকে চিঠি দিয়ে দিয়েছে, সেটি নিয়ে খুব আলোচনা হয়েছে দেশে। সরকার দলকে মনে হয়েছে, এইসব অভিযোগ শুনে অভ্যস্থ। আর বিরোধীরা অভিযোগ জানিয়েই যাবে। কিন্তু, দুদকের কাছে অভিযোগ জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে এই অভিযোগের একটি আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হল। এখন সরকার যদি নিরপেক্ষভাবে সহায়তা করে দুদককে স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে দেয়, তবে সেটি একটি নজির হবে। প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুদকের সক্ষমতা নিয়ে যে প্রশ্ন দেখা যায়, সরকার দলের বিপক্ষে তাদের কোনো অবস্থান নেই, তারা কেবল সরকারের ইচ্ছার বাস্তবায়ন করে এমন অভিযোগ থেকে বেরিয়ে আসার কাজটি দুদক শুরু করতে পারে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল মনে করেন বিএনপি যেহেতু এখন দুর্নীতির অভিযোগকারী দল হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে, ভবিষ্যতে দলটিকে এই বিষয়ে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত থাকতে হতে হবে। ভয়েস অফ আমেরিকাকে আইনের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, “বিএনপি যে বিষয়ে দুদকে চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেছে, অভিযোগের তদন্ত দাবি করেছে সেটি নিয়ে দুদকের নিজ উদ্যোগেই তদন্ত করা উচিৎ ছিল বলে আমি মনে করি। যেখানে আইনমন্ত্রী নিজেও কথপোকথনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন সেখানে কেন দুদক এগিয়ে এলো না তদন্ত করতে! কিন্তু আমরা দেখছি যে, দুদক এখানে সবসময় সরকারের হয়ে বিরোধী দল বা বিরোধী মতের মানুষকে চাপে রাখতে কাজ করে। এখানে দুদক যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতো তাহলে এইসব অনিয়ম ও দুনীতি অনেকাংশে কমে আসতো।এখন বিএনপির মতো একটি রাজনৈতিক দল যারা আরেকটি দলের বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছে, এটাকে আমি মনে করি দুদকের অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিৎ। দেশের মানুষের সামনে প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুদকের নিরপেক্ষতা প্রমাণের এই সুযোগটি দুদকের নেওয়া উচিৎ।”
ওদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেন, “একটি রাজনৈতিক দল আরেকটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি তদন্তে দুদকের কাছে অভিযোগ জমা দিয়েছে। এ থেকে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, এখন বর্তমান সরকার দেশে একটি বিচারব্যবস্থা চালু রেখেছে, ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা আছে। আস্থা আছে বলেই বিএনপির মতো একটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগপত্র জমা দিতে পেরেছে। ২০০৪ সালে ২১-এ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সময়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা থানায় বা বিভিন্ন সংস্থার অফিসে গিয়েও কোনো মামলা দিতে পারেনি। অভিযোগ জানাতে পারেনি। সেই বিবেচনায় হত্যার চেয়ে দুর্নীতি বড় অভিযোগ বলে মনে করি না। বিষয়টিকে সামগ্রিকভাবেই বিচেনায় এনে বিচার করতে হবে।”
]]>
অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক সামছুদ্দীন মাহমুদ বলেন,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি,দক্ষিন এশিয় দেশগুলি যেখানে বাংলা ভাষাভাষি অনেক লোক রয়েছে,সেখানে বাংলাকে কোন মর্যাদাই দেওয়া হয়নি। দাপ্তরিক কোন কাজে বাংলার কোন ব্যবহার কোথাও নাই,ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলা ভাষি মানুষজন অনেক অসুবিধার মধ্যে দিনাতিপাত করতে হয়।এমতাবস্থায় বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার জন্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সকল স্থানে যেখানে বাংলা ভাষাভাষি লোকজন রয়েছে সেখানে বাংলাকে দাপ্তরিক ভাষা করার জন্য সকলকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান।
একুশ আমাদের চেতনা,একুশ আমাদের অহংকার।এই অহংকারকেই বুকে ধারন করে এবারে ডিসি,ভার্জিনিয়া ও ম্যারিল্যান্ডের ২৩টি সংগঠন সম্মিলিতভাবে এই একুশে উদযাপন করেছে।এই সংগঠনগুলো হলো ওয়ার্ল্ড ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কাউন্সিল, সুন্দরবন, স্বাধীন বাংলাদেশ কালচারাল অর্গানাইজেশন, স্বদেশ,প্রিয়বাংলা, পিপল এন্ড টেক ফাউন্ডেশন, ম্যারিল্যান্ড ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামিলি, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি এলামনি ইন ডিসি, ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামিলি, ফসল, একাত্তর ফাউন্ডেশন, ধ্রুপদ, ঢাকা ইউনিভার্সিটি এলামনাই ফোরাম,বুয়েটারিয়ান ইউএসএ ক্যাপিটাল রিজন, বেস্ট,বাইটপো, বাই,বাকোডিসি, বাকডিসি, বাফি, আমরা নারী, আবিয়া ও আমারা বাঙালি ফাউন্ডেশন।