
Over the years, I have written several plays. Many have been published in anthologies or theatre-related magazines. However, demand for drama publications has never been exciting, especially Bengali drama. Only those who are interested in producing plays look for new dramas. Unfortunately, that number is relatively low. Most theatre producers and directors try to stage successful pre-produced plays that are well-known to the audience. This lack of demand for drama books has discouraged the publishers from investing in playwrights unless they are extremely popular. A few of the new playwrights who manage to get their collection of plays published (with special financial arrangements with the publisher) are typically left with a huge stock of unsold books in their warehouse. Several times, people who look for play collections of their favorite playwrights are disappointed by publishers who fail to find any copies of the book in their stock.
With this problem in view, I have decided to make my plays (most of them) available to theatre lovers in PDF form for FREE. If you’d like to read one of my plays, just register and login to this site and download the PDF file.
If you have any problems in downloading the pdf, please check your settings. I have tested each file, and they download perfectly at my end.
If you decide to produce and stage a play, I request you to seek my permission by sending and email.
Thank you.
(সেক্রেটারিয়েটের প্রবীণ আমলা কমলেশ চাকীর ঘর। কমলেশ চাকী একটা ফাইল দেখছেন। সামনে বিশিষ্ট কবি প্রবুদ্ধ কর বসে আছেন।)
কমলেশ।। আপনি ২০১১ সালে একাডেমী পুরস্কার পেয়েছেন –
প্রবুদ্ধ।। না। আমি একাডেমী পাই নি, আমি –
কমলেশ।। একাডেমী পাননি? সেকি, এখানে পরিষ্কার লেখা রয়েছে –
প্রবুদ্ধ।। ভুল লেখা আছে। ২০১১ সালে আমি –
কমলেশ।। ভুল? কি বলছেন আপনি? মন্ত্রী মশাইয়ের ডাইরেক্ট নির্দেশে এই ফাইল আমাদের স্পেশাল ব্রাঞ্চ তৈরি করেছে। এখানে ভুল থাকতে পারে না।
প্রবুদ্ধ।। আপনি কিন্তু এখনও বললেন না আমাকে কেন এখানে নিয়ে এসেছেন।
কমলেশ।। সেটা উনিই আপনাকে বলবেন। তবে যাই বলুন না কেন, তর্ক করতে যাবেন না। আমি জানি আপনি বিরোধী দলের কার্ড ক্যারিং মেম্বার। কিন্তু এটা সংসদ নয়, এখানে কোন তর্ক উনি বরদাস্ত করবেন না। সুতরাং সামলে কথা বলবেন। রেগে গেলে উনি কিন্তু কাউকে কেয়ার করেন না। (আবার ফাইলে চোখ) আপনি শিওর ২০১১ সালে আপনি…? না না, ব্যাপারটা কনফার্ম করতে হবে। দাঁড়ান আমি স্পেশাল ব্রাঞ্চের মিস্টার মিত্তিরকে একটা ফোন –
(ফোন তুলতে যান, ঠিক সেই সময়ে মন্ত্রী মশাই প্রবেশ করেন। ফোন ছেড়ে লাফিয়ে দাঁড়িয়ে ওঠেন কমলেশ।)
কমলেশ।। স্যার আপনি কেন কষ্ট করে – আমাকে বললে আমি ওনাকে আপনার ঘরে –
মন্ত্রী।। এখানেই ভাল। আমার ঘরে অনেক ডিস্টারবেন্স। প্রবুদ্ধ বাবু নমস্কার। (কমলেশের চেয়ারে বসতে বসতে) আমি আপনার একজন গুণমুগ্ধ ফ্যান। আপনার সব বই আমি পড়েছি। অনেক কবিতা আমার মুখস্ত।
প্রবুদ্ধ।। ধন্যবাদ। কিন্তু আমি ঠিক এখনও –
মন্ত্রী।। বুঝতে পারছেন না কেন আপনাকে ডেকেছি, তাইতো? বলছি। কমলেশ, ওনাকে চা কফি খাইয়েছ?
কমলেশ।। না মানে উনি –
মন্ত্রী।। ছি ছি ছি। ওনার মত একজন একজন বিশিষ্ট কবি আমাদের অতিথি আর তাকে তুমি এক কাপ চা খাওয়াতে পারনি? তুমি না পাবলিক সারভেন্ট? যাও, দুকাপ চা – না চা নয়, কফি। ভাল করে দুকাপ কফি করে আন। ভাল করে, বুঝলে?
কমলেশ।। ইয়েস স্যার। (কমলেশ বেরিয়ে যায়)
মন্ত্রী।। এবার কাজের কথায় আসি। শুনুন প্রবুদ্ধ বাবু, আমি সোজা কথার মানুষ। চাঁছা ছোলা কথা বলে ফেলার জন্য আমার যথেষ্ট দুর্নাম আছে। রাজনীতি করি বটে কিন্তু আর পাঁচটা রাজনীতিবিদের মত ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কথা আমি বলতে পারি না। এন্ড দ্যাট ইজ মাই উইকনেস। আমি চাই আপনি আমাকে মেন্টর করুন।
প্রবুদ্ধ।। (প্রায় বিষম খেয়ে) মেন্টর করব? আমি? আপনাকে?
মন্ত্রী।। হ্যাঁ। অসুবিধেটা কোথায়?
প্রবুদ্ধ।। না, মানে আমি তো ঠিক সরাসরি রাজনীতি করিনা। আর তাছাড়া –
মন্ত্রী।। প্রবুদ্ধ বাবু, রাজনীতির প্রথম শর্ত হল মানুষের মন জয় করা। আর সে কাজ আপনার মত কবির চেয়ে ভাল কে করতে পারে বলুন? একেকটা শব্দ, একেকটা পঙক্তি, একেকটা স্তবক দিয়ে আপনি যেভাবে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে যান, যেভাবে তাদের হিপ্নটাইজ করে ফেলেন, তাদের উদ্বুদ্ধ করেন, সেই ক্ষমতা কজন রাজনীতিবিদের আছে? আপনি আমাকে সেই আর্টটা শিখিয়ে দিন।
প্রবুদ্ধ।। আপনি কবিতা লিখতে চান?
মন্ত্রী।। একদম না। লেখা লেখি আমার একেবারেই পোষায় না। আমি চাই, আমি যখন বক্তৃতা দেব আমার প্রতিটা কথা যেন আপনার কবিতার মত মানুষের হৃদয়ে গেঁথে যায়। আমার বক্তৃতার ছন্দ যেন মানুষকে মাতাল করে দেয়। লোকে যেভাবে আপনার কবিতার লাইন কোট করে, ঠিক সেইভাবে তারা যেন আমার বক্তৃতার লাইন কোট করে। আপনি আমার পাশে থাকুন, আমাকে ট্রেন করুন। আমি খুব ভাল ছাত্র, আপনাকে আমি হতাশ করব না।
প্রবুদ্ধ।। আপনি যা চাইছেন তার জন্য একজন ভাল স্পিচ রাইটারই তো যথেষ্ট। অনেকেই আছেন –
মন্ত্রী।। স্পিচ নয়, স্পিচ নয় প্রবুদ্ধ বাবু – কবিতা। ছন্দ, শব্দ, চিত্রকল্প – আপনাকে আমি বোঝাতে পারছি? মঞ্চে মাইকের সামনে আর গলাবাজি করতে চাই না আমি। ওসব পুরনো হয়ে গেছে। এখন কেবল কবিতা – আমার কণ্ঠ থেকে সোচ্চার, স্বতঃস্ফূর্ত, উদ্দিপনাময় কবিতা ছড়িয়ে পড়বে ব্রিগেডের জনারণ্যে! মানুষ পাগল হয়ে যাবে। উফ! ভাবতেই রোমাঞ্চ হচ্ছে!
প্রবুদ্ধ।। কিন্তু আমি কি করে আপনাকে শেখাব? আমাদের আইডিওলজি –
মন্ত্রী।। এক এবং অভিন্ন। প্রবুদ্ধ বাবু, আমরা সবাই চাই বাংলার মানুষকে কিছু দিতে, তাদের সুখী করতে। কিছুই তো তাদের দিতে পারিনি। আপনার দল পারে নি, আমরাও পারিনি। এবার নাহয় কিছু দিলাম। আপনি আমি দুজনেই জানি, কবিতা পেলে বাংলার মানুষ আর কিছু চায় না। শিল্প, বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ল-এন্ড-অরডার এসব না হলেও তাদের চলে যাবে। কিন্তু কবিতা ছাড়া বাঙ্গালির এক মুহূর্ত চলবে না। এটুকু যদি ওঁদের দিতে পারি, তাহলেই ওঁরা খুশি। আর কিচ্ছু চাই না।
(দরজা খুলে যায়, কফির ট্রে হাতে কমলেশ ঢোকেন।)
কমলেশ।। কফি?
মন্ত্রী।। হ্যাঁ কফি অবশ্যই চাই। এখানে রাখ। আর হ্যাঁ, কমলেশ শোন। প্রবুদ্ধ বাবুর ফাইলে একটা টাইপো-গ্রাফিকাল এরার রয়েছে। একাডেমী উনি ২০১১ তে পান নি, এবছর পাবেন। ওটা শুধরে দিও। (কফির কাপ এগিয়ে দেন) প্রবুদ্ধ বাবু তাহলে ওই কথাই রইল? কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রেস এসে পড়বে। সুসংবাদটা নিজের মুখেই ওদের জানিয়ে দেবেন।
প্রবুদ্ধ।। (উঠে দাঁড়ান) আমি দুঃখিত মন্ত্রী মশাই। আমি আপনার কোন কাজে আসব না। আমি কবিতা লেখা, কবিতা চর্চা চিরদিনের মত ছেড়ে দিয়েছি।
মন্ত্রী।। সে কি? কবে ছাড়লেন?
প্রবুদ্ধ।। এই তিরিশ সেকেন্ড আগে। এখন আমি কেবল একজন সাধারণ নাগরিক যার অনেক কিছু চাহিদা অপূর্ণ রয়ে গেছে। সেগুলি আদায় করা এখন আমার জীবনের প্রধান লক্ষ্য। আপনি আমার চোখ খুলে দিয়েছেন। সেজন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমি চলি। নমস্কার।
(প্রবুদ্ধ ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যান, মন্ত্রী হাঁ করে সে দিকে চেয়ে থাকেন। আলো নিভে যায়।)
সমাপ্ত
]]>নিখিলেশঃ কি দেখছ?
পূর্বাঃ সূর্য উঠবে।
নিখিলেশঃ তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে?
পূর্বাঃ মাথা খারাপ? কেন?
নিখিলেশঃ তুমি জানো না এখানে সূর্য ওঠে না?
পূর্বাঃ সূর্য ওঠে না? কেন?
নিখিলেশঃ পূর্বা তুমি জান, এখানে কোন সূর্য নেই।
পূর্বাঃ সূর্য নেই? তাহলে ওই আলো?
নিখিলেশঃ পূর্বা তুমি বোধহয় এখনো ঘুমের ঘোরে রয়েছ। দীর্ঘ তেত্রিশ বছরের হিম শীতল ঘুম, তার ঘোর তো একটু থাকবেই। তুমি ভুলে যাচ্ছ, আমরা
এক্স-২০৬ গ্রহের মাটিতে দাঁড়িয়ে আছি। এই গ্রহ নিজেই তার আলো তৈরি করে – সেই আলোই তুমি দেখছ।
পূর্বাঃ এক্স ২০৬? কই আমার তো কিছু মনে পড়ছে না। এটা পৃথিবী নয়? (নিখিলেশ মাথা নেড়ে না বলে) এখানে সূর্য নেই? (নিখিলেশ চুপ করে থাকে)
চুপ করে থেক না। প্লিজ কিছু বল। আমার কিছু মনে পড়ছে না। আমরা এখানে কেন? আমার দেশ, আমার পৃথিবী, আমার সূর্য – কোথায়?
নিখিলেশঃ আমাদের সূর্য মরে গেছে পূর্বা। আমাদের পৃথিবী মৃত। আমাদের দুজনকে পাঠান হয়েছে আমাদের সেই মৃত পৃথিবী থেকে তেত্রিশ হাজার আলোকবর্ষ দূরের এই এক্স-২০৬ গ্রহে। আমাদের উপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই গ্রহকে পৃথিবী করে তোলার। আমরাই এই গ্রহের আদম ইভ।
পূর্বাঃ কিন্তু কেন? আমি কী পাপ করেছি?
নিখিলেশঃ তুমি নও, আমরা সবাই করেছি। এখন সময় প্রায়শ্চিত্যের।
(নিখিলেশ পূর্বা হাত ধরাধরি করে দাঁড়িয়ে থাকে। আলো নিভে যায়।)