দৈনিক শেয়ার বিজ কড়চায় মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেডকে নিয়ে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এরই ধারাবাহিকতায় শেয়ার বিজকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো, ৪১৪ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবিতে নিম্ন আদালতে মামলা করার আবেদন এবং পরে হাইকোর্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা পরে স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রুল দুই সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্ট বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। পাশাপাশি মামলার বিষয়ে পক্ষগুলোকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, শেয়ার বিজে রবি আজিয়াটাকে নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ আইনি বিরোধের সূত্রপাত হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে রবি ও এয়ারটেলের একীভূতকরণের পরও এয়ারটেল ব্র্যান্ড পৃথকভাবে পরিচালিত হওয়া, অবৈধ ভিওআইপিতে রবির সিম ব্যবহারের অভিযোগ, বিটিআরসির জরিমানা, জরিমানার অর্থ পরিশোধ এবং রবি আজিয়াটার আর্থিক ও করপোরেট সুশাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
প্রথম দিকে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে রবির বক্তব্যও দেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরবর্তী প্রতিবেদনগুলোর বিষয়ে রবির বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হলেও সব ক্ষেত্রে লিখিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে শেয়ার বিজের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
একীভূতকরণের পরও এয়ারটেল ব্র্যান্ড নিয়ে প্রশ্ন
শেয়ার বিজে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে ‘একীভূতকরণের প্রায় এক দশক পরও পৃথক ব্র্যান্ড এয়ারটেল’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদন ছিল। রবি আজিয়াটা ও এয়ারটেলের একীভূতকরণের পরও এয়ারটেল ব্র্যান্ড পৃথকভাবে পরিচালিত হওয়ার বিষয়টি এতে তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদন প্রকাশের আগে রবির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং কোম্পানিটির লিখিত বক্তব্য প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয় বলে শেয়ার বিজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এরপর রবি আজিয়াটার কার্যক্রম নিয়ে আরও কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
অবৈধ ভিওআইপি নিয়ে বিটিআরসির নোটিশ
‘অবৈধ ভিওআইপিতে রবির ৫ হাজার ৯৩৫ সিম’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিটিআরসির একটি নোটিশের তথ্য তুলে ধরা হয়।
বিটিআরসির ২১ জুলাইয়ের নোটিশ অনুযায়ী, অবৈধ আন্তর্জাতিক কল টার্মিনেশনে ব্যবহৃত ৮ হাজার ৬৮২টি সিমের মধ্যে রবির ৫ হাজার ৯৩৫টি সিম থাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় রবিকে ৫ কোটি ৯৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার তথ্যও প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়।
শেয়ার বিজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় রবির বক্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে কোনো লিখিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এরপর বিটিআরসির আরোপ করা জরিমানার অর্থ পরিশোধসংক্রান্ত বিষয় নিয়েও প্রতিবেদন প্রকাশ করে শেয়ার বিজ।
গ্র্যাচুইটি ফান্ড ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন
পরবর্তী সময়ে ‘অর্থ পরিশোধে ‘গ্র্যাচুইটি ফান্ড’ ব্যবহার করে রবি’ শিরোনামে আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে ভিআরএস ও সংশ্লিষ্ট অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে গ্র্যাচুইটি ফান্ড ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে অর্থের উৎস এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন তোলা হয়।
শেয়ার বিজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ প্রতিবেদন প্রকাশের আগেও রবির বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে কোনো লিখিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিএসইসির অনুসন্ধান ঘিরে নতুন প্রতিবেদন
রবি আজিয়াটার আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুসন্ধানসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করে শেয়ার বিজ।
‘ওপেক্স-ক্যাপেক্স থেকে ইডটকো লেনদেন খতিয়ে দেখছে বিএসইসি’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে রবি আজিয়াটার আর্থিক হিসাব ও সংশ্লিষ্ট লেনদেনের বিভিন্ন বিষয় অনুসন্ধানের আওতায় থাকার কথা তুলে ধরা হয়।
এতে অপারেটিং ব্যয়কে ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার হিসেবে দেখানোর অভিযোগ, ইডটকো গ্রুপের সঙ্গে লেনদেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত, করপোরেট সুশাসন এবং তথ্য প্রকাশসংক্রান্ত বিষয় অনুসন্ধানের আওতায় থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।
তবে বিএসইসির অনুসন্ধান চলমান থাকলে এসব অভিযোগকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত অনিয়ম হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। অনুসন্ধান শেষে কমিশনের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই বিষয়গুলোর চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারিত হবে।
লিগ্যাল নোটিশে ৪১৪ কোটি টাকা দাবি
প্রতিবেদনগুলো প্রকাশের পর ৩ আগস্ট ২০২৬ রাতে শেয়ার বিজের কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠায় রবি আজিয়াটা। শেয়ার বিজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই দিন রাত ১১টা ২১ মিনিটে ই-মেইলের মাধ্যমে নোটিশটি পাঠানো হয়।
নোটিশে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো নিয়ে আপত্তি জানানো হয় এবং সংবাদগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য আট ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ৪১৪ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ বা পেনাল্টি দাবি করা হয়।
নোটিশ পাওয়ার পর শেয়ার বিজের পক্ষ থেকে এর জবাব দেওয়া হয়।
শেয়ার বিজের দাবি, লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো নিয়ে রবির পক্ষ থেকে কোনো রিজয়েন্ডার বা আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্র দেওয়া হয়নি। তবে প্রথম প্রতিবেদনের সময় রবির বক্তব্য নেওয়া হয়েছিল এবং তা প্রকাশ করা হয়েছিল বলে পত্রিকাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরদিন নিম্ন আদালতে মামলা করার আবেদন
লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর পরদিন ৪ আগস্ট ২০২৬ রবির পক্ষ থেকে শেয়ার বিজের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে মামলা করার আবেদন করা হয়। মামলায় ৪১৪ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ বা মানহানির দাবি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তবে নিম্ন আদালতে মামলাটি গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই বিষয়টি হাইকোর্টে গড়ায়। রবি আজিয়াটার পক্ষ থেকে হাইকোর্ট বিভাগে সিভিল রিভিশন আবেদন করা হয়।
হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা
রবির আবেদনের পর হাইকোর্ট শেয়ার বিজে রবি-সংক্রান্ত কোনো মিথ্যা, বানোয়াট বা মানহানিকর প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়ে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন।
এর ফলে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধ আদালতের উচ্চ পর্যায়ে চলে যায়। তবে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে শেয়ার বিজের পক্ষ থেকে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়।
আপিল বিভাগে স্থগিত হাইকোর্টের আদেশ
আপিল বিভাগে শুনানি শেষে হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়।
একই সঙ্গে হাইকোর্ট বিভাগকে সংশ্লিষ্ট রুল দুই সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি মামলার বিষয়ে পক্ষগুলোকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা আপিল বিভাগের আদেশের পর কার্যকর থাকেনি। তবে বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পক্ষগুলোকে আদালতের নির্দেশিত স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হবে।
নিম্ন আদালতের শুনানি ঘিরে আইনি জটিলতা
রবি নিম্ন আদালতে মামলা করার আবেদন করার পর ১৩ আগস্ট সেখানে শুনানির তারিখ ছিল বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছ থেকে জানা গেছে। শেয়ার বিজের পক্ষের দাবি, ওই পর্যায়ে মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে চূড়ান্ত শুনানি হয়নি।
পরবর্তীতে বিষয়টি আবার আদালতে আসে। এরই মধ্যে আপিল বিভাগ স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়ায় নিম্ন আদালতে মামলার পরবর্তী কার্যক্রমও সংশ্লিষ্ট উচ্চ আদালতের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে পড়ে।
মামলাটি শেষ পর্যন্ত কোন প্রক্রিয়ায় এগোবে, তা সংশ্লিষ্ট আদালতের পরবর্তী আদেশের ওপর নির্ভর করছে।
বিরোধ নিয়ে অন্যান্য গণমাধ্যমেও প্রতিবেদন
রবি-শেয়ার বিজের আইনি বিরোধের বিষয়টি পরবর্তী সময়ে অন্যান্য গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা, রবির আইনি পদক্ষেপ এবং আদালতকেন্দ্রিক বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়।
এসব প্রতিবেদনের কিছু বিষয়ে শেয়ার বিজের পক্ষ থেকেও আপত্তি জানানো হয় এবং পরবর্তী সময়ে রিজয়েন্ডার প্রকাশ করা হয়।
তবে অন্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো এই বিরোধের মূল আইনি প্রক্রিয়া থেকে আলাদা একটি পরবর্তী ঘটনা। মূল বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল শেয়ার বিজে প্রকাশিত রবি-সংক্রান্ত সংবাদকে কেন্দ্র করে।
শেয়ার বিজের আইনজীবীর বক্তব্য
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে শেয়ার বিজের আইনজীবী ইমরান সিদ্দিক বলেন, “হাইকোর্ট বিভাগ রবি বা এর কর্মীদের সম্পর্কে কোনো মিথ্যা, বানোয়াট বা মানহানিকর বক্তব্য প্রকাশ করা থেকে শেয়ার বিজকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। শেয়ার বিজ ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে। আপিল বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ স্থগিত করেন এবং মামলার বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে পক্ষগুলোকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
“হাইকোর্ট বিভাগ কোনো পর্যায়েই প্রামাণ্য দলিলের ভিত্তিতে রবি সম্পর্কে সঠিক তথ্যসংবলিত প্রতিবেদন প্রকাশে শেয়ার বিজকে নিষেধ করেননি। ফলে রবি সম্পর্কে তথ্যগতভাবে সঠিক এবং যথাযথ প্রমাণসমর্থিত তথ্য প্রকাশে শেয়ার বিজের বিরুদ্ধে কখনো কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না—এখনো নেই।
“তবে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশের কারণে বিচারিক আদালতে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম বর্তমানে এগিয়ে নেওয়া যাবে না। হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন রুল নিষ্পত্তির পরই মামলাটি গ্রহণের বিষয়ে শুনানি হতে পারে।”
চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় বিরোধ
রবি আজিয়াটা ও শেয়ার বিজের মধ্যকার বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। একদিকে রবি প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে, অন্যদিকে শেয়ার বিজ প্রকাশিত সংবাদগুলোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা আপিল বিভাগ স্থগিত করেছেন। একই সঙ্গে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট রুল দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পক্ষগুলোকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বলা হয়েছে।
ফলে এখন মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে—হাইকোর্টের বিচারাধীন রুলের নিষ্পত্তি এবং এর পর মামলার গ্রহণযোগ্যতা ও মূল অভিযোগের বিষয়ে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত।
সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া রবি ও শেয়ার বিজের এ বিরোধ ইতোমধ্যে লিগ্যাল নোটিশ, ক্ষতিপূরণের দাবি, নিম্ন আদালত, হাইকোর্ট এবং আপিল বিভাগ পর্যন্ত গড়িয়েছে। ফলে বিষয়টির পরবর্তী আইনি গতিপথ এখন সংশ্লিষ্ট আদালতের আদেশের ওপর নির্ভর করছে।
]]>‘ভ্যালিডেশন অব দ্য রিভাইজড ব্যাচেলর অব অনার্স সেকেন্ড ইয়ার সিলেবাস’ শীর্ষক কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অনারারি অধ্যাপক ও সমাজবিজ্ঞানী ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন।
কর্মশালায় প্রতিদিন দুটি অধিবেশনে পাবলিক ও বেসরকারি খাতের বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও শিক্ষকেরা অংশ নিচ্ছেন। সংশোধিত সিলেবাসের বিষয়বস্তু, শিক্ষার্থীদের শিখন প্রক্রিয়া, ব্যবহারিক ও কর্মমুখী জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং শ্রেণিকক্ষে কার্যকর লার্নিং এনভায়রনমেন্ট তৈরির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশেষজ্ঞরা মতামত দিচ্ছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম ও সিলেবাস আধুনিকায়ন এখন আর সময়ের দাবি মাত্র নয়, বরং এটি অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে পড়াশোনা করেন। তাই এই শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তন ছাড়া দেশের উচ্চশিক্ষায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা কঠিন। এর উন্নয়ন না হলে দেশের ৭০ শতাংশ শিক্ষার বেহাল দশা কাটবে না। এ জন্যই কারিকুলাম ও সিলেবাস উন্নয়নে ‘ম্যাসিভ’ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে উচ্চশিক্ষার সঙ্গে কর্মক্ষেত্র, প্রযুক্তি, গবেষণা ও বাস্তবজীবনের যোগসূত্র তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিবেচনায় সিলেবাসে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার পরিবেশকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, সংশোধিত সিলেবাসে শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবন ও কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারিগরি ও ব্যবহারিক বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাচ্ছে। উচ্চশিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের অংশ হিসেবে কারিকুলাম ও সিলেবাস আধুনিকায়নের উদ্যোগ ধারাবাকিভাবেই চলবে। শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিক জ্ঞান নয়, ব্যবহারিক দক্ষতা, কর্মমুখী শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। এছাড়া তৃতীয় ভাষা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অনারারি অধ্যাপক ও সমাজবিজ্ঞানী ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঔপনিবেশিকতার প্রভাব থেকে বের করে আনতে হবে। তা না হলে শিক্ষাব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) ড. এ এইচ এম রুহুল কুদ্দুস, স্নাতকোত্তর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. ফকির রফিকুল আলম, স্নাতকপূর্ব শিক্ষা বিষয়ক স্কুলের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. আশেক কবির চৌধুরী।
]]>অভিযোগকারী আলাউদ্দিন জানান, শিমলা মৌজার ৪৫১ নম্বর খতিয়ানের ১১২৬ ও ১২১৬ নম্বর দাগের ৩ শতক জমি নিয়ে বিবাদীদের সাথে তাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। জমিটি নিয়ে ইতিপূর্বে বিজ্ঞ আদালত তাঁর পক্ষে রায় প্রদান করেন। তবে বিবাদীরা উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে পুনরায় মামলা চালু করলে বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
অভিযোগ উঠে, আদালতের বিচারাধীন আইন তোয়াক্কা না করে ও নিয়ম উপেক্ষা করে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি. সকাল আনুমানিক ৮ টার দিকে বিবাদীরা জোরপূর্বক উক্ত জমিতে প্রবেশ করে। তারা টিনের বেড়া দিয়ে সেখানে একটি টয়লেট স্থাপন করে। এ সময় আলাউদ্দিন বাধা দিলে বিবাদীরা তাঁকে খুন জখমের হুমকি,
অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মারপিটের জন্য তেড়ে আসে। প্রাণের ভয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। স্বজনদের সাথে আলোচনা করায় থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে জানিয়ে তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত আইনি প্রতিকার দাবি করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিবাদী আব্দুল মালেক এলাকায় সুবিধাজনক প্রকৃতির লোক নন। এছাড়াও তিনি ইতিপূর্বে শতবর্ষী প্রাচীন একটি চলাচলের রাস্তাও বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিবাদী আ. মালেকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ বিষয়ে আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহবুব আলম জানান, চকশিমলা গ্রামের জমি সংক্রান্ত বিরোধের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
]]>ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত সংক্রমিতএডিসমশারকামড়ে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। এডিসমশাসাধারণতদিনের বেলায় বেশি কামড়ায় এবং ঘরের ভেতর ও আশপাশেজমে থাকা অল্প এমনকি পরিষ্কার পানিতেওবংশবিস্তার করতে পারে। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের কাপ বা বোতল, নির্মাণাধীনভবনেরজমে থাকা পানি, ছাদের বিভিন্ন পাত্র কিংবা খুব ছোট কোনো পানিরআধারওএডিসেরপ্রজননস্থল হয়ে উঠতে পারে। তাই শুধু নোংরা ড্রেন পরিষ্কার করলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ হবেÑএমন ধারণা যথেষ্ট নয়।
সংক্রমিতমশাকামড়ানোরসাধারণত চার থেকে দশদিনের মধ্যে ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিতে পারে। হঠাৎ উচ্চ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও অস্থিসন্ধিতেব্যথা, বমিবমিভাব, বমি এবং কখনো ত্বকে র্যাশÑএসব ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণ। অধিকাংশ রোগী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন। কিন্তু বিপদের জায়গাটি হলো, জ্বরকমে গেলেই যে রোগী সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন, তা সবসময় নয়। বরং জ্বরকমারপরের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টাই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়।
তীব্র পেটব্যথা, বারবারবমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, বমি বা পায়খানায় রক্ত, অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা অস্থিরতা, দ্রুত শ্বাস নেওয়া, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ফ্যাকাশে ও ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিতে হবে। কারণ গুরুতর ডেঙ্গুতে শরীরের রক্তনালি থেকে তরল বেরিয়ে গিয়ে শক, গুরুতর রক্তক্ষরণ কিংবা বিভিন্ন অঙ্গের কার্যকারিতাব্যাহত হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জ্বরকমেযাওয়ার পর এসব সতর্ক সংকেতের দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিকপরিসংখ্যানে বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব স্পষ্ট। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে হাসপাতালেভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজার ৮০০তে পৌঁছেছে এবং মৃত্যু হয়েছে ৯৭ জনের। এর মধ্যে শুধু আগস্ট মাসেইহাসপাতালেভর্তি হয়েছেন ২০ হাজার ৫৩৬ জন এবং মারা গেছেন ৪৩ জন। বছরের প্রথম সাত মাসের সম্মিলিতসংখ্যাকেওআগস্টের এক মাসের ভর্তি ছাড়িয়ে গেছে। জুলাইয়ে যেখানে হাসপাতালেভর্তি ছিলেন ৯ হাজার ২০৬ জন, আগস্টে সেই সংখ্যা হয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।
এই পরিসংখ্যানকেসাম্প্রতিক বছরগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে ডেঙ্গুর দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকিটিও স্পষ্ট হয়। ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গুতে ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালেভর্তি হন এবং ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়- যা এখন পর্যন্ত এ দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ২০২৫ সালেও ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন হাসপাতালেভর্তি এবং ৪১৩ জনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে। অর্থাৎ ডেঙ্গু এখন আর কেবল ঢাকাকেন্দ্রিক বা একটি নির্দিষ্ট মৌসুমের রোগ নয়; দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেই এর বিস্তার ও তীব্রতা নিয়ে নজরদারি জরুরি।
রাজশাহীরচিত্রও এ বছর বিশেষভাবেমনোযোগ দাবি করছে। রাজশাহী বিভাগের স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুধু আগস্ট মাসেই বিভাগের আট জেলার হাসপাতালে মোট ১ হাজার ৮৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এ মাসে দুজনেরমৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি রোগীপাওয়া গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জেÑ৬৪৩ জন। তিনটি মেডিকেল কলেজের মধ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই ২২৮ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন এবং সেখানে দুজনেরমৃত্যু হয়েছে।
রাজশাহীতে রোগী বাড়ার পাশাপাশি এডিসমশারঘনত্ব বৃদ্ধির তথ্যও উদ্বেগের কারণ। মশারপ্রজনন পরিস্থিতি বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলোব্রুটো ইনডেক্স। সহজভাবেবললে, ১০০টি বাড়ি পরিদর্শন করলে কতটি বাড়ি বা সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় এডিসেরলার্ভাপাওয়া যাচ্ছে, সেই হিসাব।আগস্টের প্রথম সপ্তাহে রাজশাহী শহরের পাঁচটি এলাকায় পরিচালিতজরিপেব্রুটো ইনডেক্স ৬১ দশমিক ৩৩ পাওয়া যায়, যেখানে মে মাসে একই এলাকাগুলোতে তা ছিল ৩০ দশমিক ৬৬। অর্থাৎ মাত্র দুই মাসে ওই এলাকাগুলোতে এডিসেরপ্রজননঘনত্ব প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।চাঁপাইনবাবগঞ্জে রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় রাজশাহী বিভাগের ডেঙ্গু পরিস্থিতি যে শুধু রাজশাহী মহানগরকেন্দ্রিক নয়, বরং পুরো অঞ্চলের সমন্বিত নজরদারিপ্রয়োজনÑএই তথ্যও তা মনে করিয়ে দেয়।
ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর জায়গাটি আসলে হাসপাতাল নয় বরং আমাদের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ। এডিসমশারপ্রজননস্থল ধ্বংস না করলে শুধু ওষুধ ছিটিয়ে বা কুয়াশা তৈরি করে (ফগিং) দীর্ঘমেয়াদে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। সপ্তাহে অন্তত একদিন বাড়ি ও কর্মস্থলের আশপাশ ভালোভাবে দেখে কোথাও পানি জমে আছে কি না তা খুঁজে বের করতে হবে। পানি জমে থাকতে পারে এমন অপ্রয়োজনীয় পাত্র সরিয়ে ফেলতে হবে, প্রয়োজনীয় পানিরপাত্র ঢেকে রাখতে হবে এবং নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ছাদ, বারান্দা, বাগান, নির্মাণস্থল কিংবা পরিত্যক্ত জায়গাÑকোনোটিই বাদ দেওয়া যাবে না। বাড়িরআঙিনা থেকে শুরু করে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, নির্মাণাধীন ভবন এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেরআশপাশÑসব জায়গায় একই সঙ্গে কাজ করতে হবে।
একই সঙ্গে ব্যক্তিগত সুরক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ। দিনের বেলাতেও প্রয়োজন হলে মশাপ্রতিরোধক ব্যবহার, শরীর যতটা সম্ভব ঢাকা পোশাক পরা এবং ঘুমের সময় মশারি ব্যবহার করা উচিত। বাড়িতে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে তাকে মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত রাখাও জরুরি, কারণ অসুস্থ ব্যক্তির রক্তে থাকা ভাইরাস মশার মাধ্যমে অন্য মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ডেঙ্গু হলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, কিন্তু অবহেলারও সুযোগ নেই। ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই; চিকিৎসার মূল ভিত্তি হলো পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ, বিশ্রাম, জ্বর ও ব্যথা নিয়ন্ত্রণ এবং রোগীরঅবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ। শুধু প্লাটিলেটের সংখ্যা দেখে রোগেরতীব্রতাবিচার না করে রোগীরসামগ্রিকঅবস্থা, রক্তচাপ, প্রস্রাবের পরিমাণ, রক্তক্ষরণের লক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষারফলচিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মূল্যায়ন করা জরুরি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘জ্বরকমেছে, তাই বিপদ কেটে গেছে’Ñএই ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা। ডেঙ্গুর সংকটজনকপর্যায় অনেক সময়ইজ্বরচলেযাওয়ার পর শুরু হয়। তাই জ্বরের দিনগুলোতে যেমন নজরদারি প্রয়োজন, তেমনি জ্বরকমারপরেরকয়েকদিনও রোগীকেকাছ থেকে দেখতে হবে। সতর্কসংকেত দেখা দিলে বাড়িতে অপেক্ষা না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের দায়িত্ব কেবল রোগীহাসপাতালে আসার পর চিকিৎসা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ২০২৬ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য অংশীজনের সমন্বয়ে নজরদারি, রোগীর তথ্যের ভিত্তিতেমশা নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সচেতনতা এবং চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তিনমাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ উদ্বোধন করেছেন, যা ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে চলবে। কর্মসূচির আওতায় এডিসমশারপ্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি, বেসরকারি ও সামাজিক উদ্যোগকে সমন্বিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; জেলা-উপজেলা পর্যায়েও স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবীসংগঠন ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। এছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সরকারি হাসপাতালগুলোতে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা, ডেঙ্গু কর্নার চালু রাখা এবং সচেতনতা কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনার কথাওজানিয়েছে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের অভিযানকেপূর্ণতা দিতে প্রয়োজন সচেতন নাগরিকদের অংশগ্রহণ। একটি বাড়ির ছাদে জমে থাকা পানি, একটি পরিত্যক্ত টব, একটি নির্মাণস্থলের পানিভর্তি পাত্র কিংবা একটি বন্ধ ড্রেনে জমে থাকা পানিÑকোনোটিকেই‘সামান্য ব্যাপার’ বলে এড়িয়েযাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ একটি ছোট প্রজননস্থল থেকেই তৈরি হতে পারে অসংখ্য এডিসমশা, আর সেই মশাই ছড়িয়ে দিতে পারে রোগটি একটি পরিবার থেকে পুরো এলাকায়। ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে তাই লড়াইয়ের সবচেয়ে কার্যকর সূত্রটি খুব সাধারণÑমশার জন্ম হতে না দেওয়া, কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করা এবং আক্রান্ত হলে বিপদের লক্ষণচিনে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া। জ্বরকেঅবহেলা নয় আর মশারপ্রজননস্থল ধ্বংসেএকদিনও ছাড় নয়। ডেঙ্গুর বর্তমান ঊর্ধ্বমুখী পরিস্থিতিতে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি রোগেরউৎসবিনাশেপ্রতিদিনের সচেতনতাই হতে পারে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরোধ।
##পিআইডি ফিচার
]]>শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটের এনায়েত মৎস্য আড়তে নিলামে ১০ হাজার টাকায় মাছটি বিক্রি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. বেলাল হোসেন মাছটি কিনে নেন। জানা গেছে, হাতিয়ার হরণী ইউনিয়নের জেলে মো. মিলন হোসেন ‘মায়ের দোয়া’ নামের একটি ট্রলার নিয়ে ৯ জন মাঝিমাল্লাসহ বঙ্গোপসাগরে ইলিশ শিকারে যান। টানা ছয় দিন সাগরে মাছ ধরার পর অন্যান্য ইলিশের সঙ্গে তাদের জালে বড় আকারের এই ইলিশটি ধরা পড়ে।
আজ সকালে মাছটি চেয়ারম্যান ঘাটে নিয়ে আসার পর এনায়েত মৎস্য আড়তে নিলামে তোলা হয়। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মাছটি কেনার জন্য দর হাঁকেন। একপর্যায়ে ১০ হাজার টাকায় মাছটি কিনে নেন ব্যবসায়ী মো. বেলাল হোসেন।
]]>তাই ভিসার শর্ত ও অনুমোদিত সময়সীমা যথাযথভাবে মেনে চলার দায়িত্ব ভিসাধারীর নিজের-বার্তায় এমনটাই জানানো হয়েছে। বার্তায় বলা হয়, একটি মার্কিন ভিসা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিশ্চয়তা দেয় না। দেশটিতে প্রবেশের সময় কতদিন অবস্থান করা যাবে এবং কী কী শর্ত প্রযোজ্য হবে, তা নির্ধারণ করেন প্রবেশস্থলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা।
]]>প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংককে টানা ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বৃষ্টি হয়েছে। নগরীর কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৫০ মিলিমিটারের বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, সপ্তাহান্তজুড়ে বজ্রঝড় এবং ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
গভর্নর চ্যাডচার্ট সিত্তিপান্ট বলেন, চলমান পরিস্থিতি মানুষের জীবনের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি সম্পদেরও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় সরকার খাল ও জলাধারের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক করেছে। বাসিন্দাদের গুরুত্বপূর্ণ মালামাল নিরাপদ রাখতে উঁচু জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে ব্যাংককের বেশ কিছু সড়কে গাড়ি পানিতে ডুবে থাকতে দেখা গেছে। এ সময় জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো পানিবন্দি মানুষকে সহায়তা করছে।
এদিকে, ব্যাংকক সিটি প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও সরিয়ে নেওয়া বাসিন্দাদের জন্য একটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
আবহাওয়া পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে নগরীর নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা ও বন্যার মাত্রা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
]]>ধূমপান না করলেও এসব উৎস থেকে নিয়মিত ক্ষতিকর ধোঁয়া ও রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করলে ফুসফুসের বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই ফুসফুস সুস্থ রাখতে দৈনন্দিন জীবনের কয়েকটি বিষয়েও সচেতন থাকা জরুরি।
পরোক্ষ ধূমপান
ধূমপান না করলেও আশপাশের মানুষের সিগারেট বা বিড়ির ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে শরীরে ঢুকতে পারে। এই ধোঁয়ার বিভিন্ন বিষাক্ত উপাদান শ্বাসনালি পেরিয়ে ফুসফুসে পৌঁছে কোষের ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘদিন এমন ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকলে ফুসফুসের কোষে অস্বাভাবিক পরিবর্তন ও জিনগত ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই অন্যের ধূমপানের ধোঁয়া থেকেও দূরে থাকার চেষ্টা করা প্রয়োজন।
রান্নাঘরের ধোঁয়া
রান্নার জায়গায় পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা না থাকলে ধোঁয়া সহজে ঘরের ভেতরে জমে যায়। গ্যাস বা অন্যান্য জ্বালানি পোড়ানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত তেল ও মশলা পুড়ে যে ধোঁয়া তৈরি হয়, তাতেও ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকতে পারে। বেঞ্জিন ও ফরম্যালডিহাইডের মতো উপাদান দীর্ঘদিন শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে ফুসফুসের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন দীর্ঘ সময় রান্নাঘরে কাজ করেন, তাদের জন্য রান্নার স্থানটি ধোঁয়ামুক্ত ও পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল উপযোগী রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
ধুলাবালি ও রাসায়নিক কণায় অসতর্কতা
নির্মাণকাজের এলাকা, শিল্পকারখানা কিংবা অতিরিক্ত ধুলাবালিযুক্ত জায়গায় দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে নানা ধরনের ক্ষতিকর কণা শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে ঢুকতে পারে। কর্মক্ষেত্রে নিয়মিত ধোঁয়া, ধুলা বা রাসায়নিকের সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের এ বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। এ ধরনের পরিবেশে কাজ করার সময় উপযুক্ত সুরক্ষা মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। একইভাবে নির্মাণাধীন ভবন বা অতিরিক্ত ধুলাবালিযুক্ত রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময়ও নাক-মুখ ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিনের কাশি অবহেলা করা
কাশি দীর্ঘদিন ধরে থাকলেও অনেকেই বিষয়টিকে সাধারণ সর্দি-কাশি ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী কাশি, বিশেষ করে শুকনো কাশি বা শ্বাসকষ্টের কারণ সবসময় সাধারণ কোনো সমস্যা নাও হতে পারে। ফুসফুসে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন হলে এসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই কয়েক সপ্তাহ ধরে কাশি বা শ্বাসকষ্ট চলতে থাকলে নিজের মতো করে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ঘরে নিয়মিত কয়েল, ধূপ বা সুগন্ধি মোমবাতি পোড়ানো
মশা তাড়াতে ঘরের মধ্যে দীর্ঘ সময় কয়েল বা ধূপ জ্বালালে উৎপন্ন ধোঁয়া সরাসরি ঘরের বাতাসে মিশে যায়। বিশেষ করে জানালা-দরজা বন্ধ থাকা অবস্থায় এই ধোঁয়ার ঘনত্ব আরও বেড়ে যেতে পারে। এতে শ্বাসতন্ত্রে নানা ধরনের ক্ষতিকর কণা ও রাসায়নিক প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়।
সুগন্ধি মোমবাতি পোড়ানোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের সতর্কতা প্রয়োজন। কিছু মোমবাতির ধোঁয়ায় বেঞ্জিন ও ফরম্যালডিহাইডের মতো রাসায়নিক থাকতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, বদ্ধ ঘরে একটি মশার কয়েল জ্বালালে বিপুল পরিমাণ ধোঁয়া ও সূক্ষ্ম বিষাক্ত কণা তৈরি হতে পারে, যার পরিমাণকে প্রায় ১০০টি সিগারেটের ধোঁয়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি এমন এক্সপোজার শ্বাসতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর এবং ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে। তাই শুধু ধুমপান থেকে বিরত থাকলেই হবে না, ফুসফুসকে সুরক্ষিত রাখতে ঘরের বা
]]>শনিবার রাজধানীর কড়াইলের টিএনটি খেলার মাঠে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানান, নির্ধারিত ৩৪ লাখ শিশুর মধ্যে ১০ লাখ সম্প্রতি ছয় মাস বয়সে পৌঁছেছে। অন্য ২৪ লাখ শিশু আগের বিভিন্ন টিকাদান কার্যক্রমে বাদ পড়েছিল।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুক্রবার পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১০১ জন। একই সময়ে হাম নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ২৪৮ জনে।
সরকার এর আগে একাধিক দফায় হাম-রুবেলার টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করলেও সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। নতুন করে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির মাধ্যমে টিকা না পাওয়া শিশুদের শনাক্ত করে তাদের টিকার আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৫ এপ্রিল থেকে তিন ধাপে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়। ২০ এপ্রিল থেকে তা সারা দেশে আরও জোরদার করা হয়। ওই কর্মসূচিতে প্রায় ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছিল। পরে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ কর্মসূচিতে একই বয়সসীমার প্রায় ২ কোটি ২৫ লাখ শিশুর সন্ধান পাওয়া যায়।
দুই কর্মসূচির মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ শিশুর ব্যবধান থাকায় বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করতে ‘মপ-আপ’ কার্যক্রম শুরু করা হয়। মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদুল আজহার পর আরও ১৪ লাখ শিশুকে খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হয়েছে। এরপরও সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় এবার ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে বিশেষ ক্যাম্পেইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ কর্মসূচির জন্য ইউনিসেফের সহায়তায় ৪০ লাখ ডোজ হাম-রুবেলা টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। প্রয়োজনীয় টিকা উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। জরুরি ব্যবহারের জন্য ১০ লাখ ডোজ সংরক্ষণ করা হবে এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতেও এসব টিকা ব্যবহার করা হবে।
কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ছুটির দিন এবং সন্ধ্যার পরও বিভিন্ন কেন্দ্রে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হবে বলে জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি কাছের টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে শিশুদের টিকা দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের সচেতন করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান তিনি।
অনুষ্ঠানে ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি গিলিয়ান মেলসপ বলেন, হামের কারণে প্রায় এক হাজার মানুষের মৃত্যু টিকাদানের গুরুত্বের একটি গুরুতর স্মারক। তিনি জানান, বিশেষ ক্যাম্পেইনের জন্য ইউনিসেফের অগ্রিম তহবিলের মাধ্যমে গত ১০ সেপ্টেম্বর দেশে ৪৩ লাখ ডোজ হাম-রুবেলার টিকা পৌঁছেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ রাজেশ নরওয়াল বলেন, বাংলাদেশে হাম-রুবেলার সংক্রমণ এখনও চলছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী এবং টিকা না নেওয়া শিশুরা এ সংক্রমণে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় টিকাদানের কভারেজে অসমতা থাকায় বাদ পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছে পৌঁছাতে নতুন ক্যাচ-আপ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
টিকা নিয়ে ভুল তথ্য ও অপতথ্য মোকাবিলায় গণমাধ্যমকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান ডব্লিউএইচওর এই প্রতিনিধি।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আ ন ম বজলুর রশিদ বলেন, আগের দুই দফা হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়েও বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে টিকা নেওয়ার পর শরীরে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগে। এ কারণে তৃতীয় পর্যায়ে বিশেষ ক্যাচ-আপ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার নির্ধারিত ৩৪ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হলে দেশে হাম ও রুবেলার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আরও অগ্রগতি হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানান, এরই মধ্যে নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। কোনো শিশুকে বাদ না দিতে অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়েও শিশুদের টিকা দেওয়া হয়েছে। নতুন ধাপেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে ‘ইনটেনসিফাইড এমআর ক্যাচ-আপ ভ্যাকসিনেশন’ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। কর্মসূচিটি চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিলে পরিচালিত দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচিতে নির্ধারিত লক্ষ্যের ১০৯ দশমিক ৪ শতাংশ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছিল। এরপরও হামের সংক্রমণ কমেনি। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আক্রান্তদের বড় অংশই টিকাবিহীন শিশু।
এদিকে হামের বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যে দেশের ইপিআই ও প্রতিরোধযোগ্য রোগের নজরদারি ব্যবস্থা পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে ডব্লিউএইচও, ইউনিসেফসহ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো। আগামী ৪ থেকে ১৪ অক্টোবর দেশের আট বিভাগের নির্বাচিত জেলা, উপজেলা ও টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শন করবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত দল।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই পর্যালোচনায় মাঠপর্যায়ের টিকাদান কার্যক্রম, রোগ নজরদারি ও প্রতিরোধব্যবস্থার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হবে।
]]>তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় যে-ই জড়িত থাকুক, তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজ শনিবার রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি গতকাল সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি দেখে এসেছেন। তবে রাতে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের উপকমিশনারের (ডিসি) সঙ্গে কথা বলেছেন জানিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, পুলিশ তাকে জানিয়েছে, ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। বিভিন্ন ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এ সময় জায়গাটি নিয়ে কোনো সমিতি ও এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের মধ্যে আইনি বিরোধ থাকলে তা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে বলেও জানান শফিকুল ইসলাম খান। ভাঙচুরের পর টিকাদান কর্মসূচি চালু রাখা যাবে কি না, জানতে চাইলে প্রশাসক বলেন, সেখানে ইতোমধ্যে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের যতটুকু সহযোগিতা প্রয়োজন, তা করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে ঢুকে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে বলে অভিযোগ। পরে মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, ভ্যাকসিন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালপত্র লুট করে নেওয়া হয়। এরপর ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় এক কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার। ঘটনার পর তিনি বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় মামলা করেছেন।
স্থানীয় বিএনপির দুটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি দখলের চেষ্টা করছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে একটি পক্ষ ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে জায়গাটি দখলে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
]]>